দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জীবিকার তাগিদে একসময় গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে ছুটে বেড়াতেন মিজানুর রহমান। তবে নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির স্বপ্নও ছিল তার। সেই স্বপ্ন থেকেই ২০২১ সালে শুরু করেন মিশ্র ফলের বাগান। বর্তমানে তিনটি বাগানে বিভিন্ন জাতের ফল চাষের পাশাপাশি উন্নত জাতের ফলের চারা বিক্রি করছেন তিনি।
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের ছোট কলধারী গ্রামের মিজানুর রহমান পেশায় একজন গাড়িচালক। পেশার পাশাপাশি নিজের উদ্যোগ, শ্রম ও মেধায় আড়াই বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন তিনটি মিশ্র ফলের বাগান। এসব বাগানে একসঙ্গে চাষ হচ্ছে নানা জাতের উন্নত ফল।
মিজানুর রহমানের বাগানে রয়েছে ভিয়েতনামি মাল্টা, ১২ মাসি মাল্টা, মাল্টা পয়সা, বারি-১, বাউ-৩ ভিয়েতনামি জাত, চায়না ও দার্জিলিং কমলা, বেদানা বারি-৪ ও বারি-৭ জাত, পেঁপে এবং বিভিন্ন জাতের লেবু। এরই মধ্যে বেশ কিছু গাছে ধরেছে প্রচুর ফল। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে থাকা ফলগুলো জানান দিচ্ছে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের সাফল্য।
বাগানে উৎপাদিত ফলের স্থানীয়ভাবে ভালো চাহিদা রয়েছে। ফলে বিভিন্ন স্থানীয় ফলের আড়ত, হাট-বাজার ও বড় মোকামে এসব ফল বিক্রি করছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নত জাতের ফলের চারা বিক্রি করেও আয় করছেন।
মিজানুর রহমান বলেন, মানুষের ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিজের জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ফলের বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছি। শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বাগান বড় করেছি।
তিনি বলেন, নিজের উদ্যোগে কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ফলের বাগান শুরু করি। এখন বাগানে বিভিন্ন জাতের ফল হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাগান করার ইচ্ছা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মিজানুর রহমানের উদ্যোগ অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার। গাড়ি চালানোর পেশার পাশাপাশি কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে তিনি দেখিয়েছেন, পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে অনাবাদি জমিকেও আয়ের উৎসে পরিণত করা সম্ভব।
মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান শিলু বলেন, মিজানুর রহমানের উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। একজন গাড়িচালক হয়েও তিনি মিশ্র ফলের বাগান করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন এবং কয়েকজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন। এ ধরনের উদ্যোগ বাড়লে একদিকে ফলের চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাতেও ভূমিকা রাখবে।
একসময় যে হাতে ছিল গাড়ির স্টিয়ারিং, সেই হাতেই এখন ফলের চারা পরিচর্যা করে গড়ে উঠছে সম্ভাবনার সবুজ ভুবন। মিজানুর রহমানের মিশ্র ফলের বাগান হয়ে উঠেছে স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনুকরণীয় উদাহরণ।
যে আই